Wednesday, June 5, 2013

অনলাইনে স্বল্প সময়ে সহজ আয়

বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে ইন্টারনেটে শ্রম বিনিময় ও অনলাইনে কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনপিছিয়ে নেই বাংলাদেশওস্বল্প সময়ে সহজে আয়ের সুযোগ থাকাতেই ইল্যান্স, ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার নামে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে বাংলাদেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়ছে আর তাঁরা কাজও করে যাচ্ছেন সমান দক্ষতায়
স্বল্প সময়ে কম পারিশ্রমিকে জটিল কাজের সমাধান দিচ্ছেন ফ্রিল্যান্সাররা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো থেকে আসছে নানা কাজবিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজের অর্ডার দিয়ে দক্ষ শ্রমিক বাছাই করে স্বল্প সময়ে, কম পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে নিচ্ছে
কিন্তু একটা সময় ছিল যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাদে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভবই ছিল নাবর্তমানে অনলাইনে ক্লাউড পদ্ধতিতে খুব সহজেই বিশ্বের নানা প্রান্তের দক্ষ পেশাজীবীদের দিয়ে কম পারিশ্রমিকে কাজ করিয়ে নিতে পারছে প্রতিষ্ঠানগুলোঅনলাইনের এ শ্রমশক্তি নিয়ে সম্প্রতি ইকোনোমিস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে

পারিশ্রমিক ও প্রতিযোগিতাই বাড়িয়েছে জনপ্রিয়তা

খুব কম সময়ের নোটিশে ২২ মিনিটের একটি ভিডিও ইংরেজি থেকে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে দেওয়ার অর্ডার দিয়ে একটি কাজের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল ওয়েবসাইটেকাজের জন্য বাজেট ধরা হয়েছিল এক হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসের জনপ্রিয় দুটি সাইট ইল্যান্স ডটকম ও ওডেস্ক ডটকমে এর বিপরীতে ইল্যান্সে ২৫ টি বিড জমা পড়েছিলঅর্থাত্, ২৫ জন ফ্রিল্যান্সার ইল্যান্সে ওই কাজটির পাবার জন্য আবেদন করেন১৫ টি দেশের এই ২৫ জন ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন নতুন ফ্রিল্যান্সারঘণ্টাপ্রতি কাজের ক্ষেত্রে যে পারিশ্রমিক চাওয়া হয়েছিল দেশ ভেদে তার ভিন্নতা ছিলএ ক্ষেত্রে কোনো ফ্রিল্যান্সার ঘণ্টাপ্রতি ১৬ ডলার আবেদন করেছিলেন আবার কেউ বা কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন ঘণ্টাপ্রতি ৩২ ডলার কাজের অভিজ্ঞতা ও অঞ্চলভেদে এ পারিশ্রমিকের তারতম্য, দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণেই অনলাইনভিত্তিক মার্কেটপ্লেসগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়েছে

বিস্তৃত হয়েছে শ্রমবাজার

২০১২ সালে অনলাইন শ্রম বাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে২০১৪ সাল নাগাদ অনলাইন এ শ্রম বাজার দ্বিগুণ হয়ে যাবে২০১৮ সাল নাগাদ অনলাইন শ্রমশক্তির বাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলেই মার্কিন বাজার গবেষকেরা ধারণা করছেন

প্রতিদ্বন্দ্বী ওডেস্ক ও ইল্যান্স

অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে সেরা প্রতিষ্ঠানের দাবি করে ওডেস্ক ও ইল্যান্স২০১২ সালে তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি সাইটে পাঁচ লাখেরও বেশি কাজ পোস্ট হয়েছে ২০১২ সাল নাগাদ ওডেস্কে ৩০ লাখ ও ইল্যান্সে ২৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেনতবে ওডেস্ক ও ইল্যান্স নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি করলেও অর্থ ব্যয়ের হিসাবে ইল্যান্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওডেস্কওডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে শুধু ওডেস্কে সাড়ে তিন কোটি ঘণ্টা কাজ হয়েছে
ইল্যান্সের প্রধান নির্বাহী ফাবিও রোসাটি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, উচ্চ পর্যায়ের ফ্রিল্যান্স কাজের বাজার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ইল্যান্স, আর তাই ইবে এবং ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন সাধারণ পর্যায়ের কাজ করার কোনো চুক্তি করা হয় নাএর বিপরীত মত নিয়ে ওডেস্কের প্রধান নির্বাহী গ্যারি সোয়ারট বলেন, বড় আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা সৃজনশীলভাবে মেটাতে পারে বলেই ওডেস্কের অগ্রগতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে
এদিকে, অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে তৃতীয় অবস্থান হিসেবে ফ্রিল্যান্সার সাইটটিকে ধরা হয়নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের হিসেবে এ সাইটটি অবশ্য শীর্ষে এ সাইটটিতে ৭০ লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেনতবে সাইটটিতে কাজের পারিশ্রমিক কম হওয়ায় এটি পিছিয়ে পড়ছেওডেস্ক, ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার ছাড়াও নতুন নতুন আরও বেশ কিছু সাইট দ্রুত অনলাইনে সামনে চলে আসছে

ব্যবসার কৌশল

শ্রমবাজার তৈরি ও ব্যবসা কৌশলের ক্ষেত্রেও অনলাইনের এ সাইটগুলো আলাদাপ্রতিটি কাজ সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি কেটে রাখে সাইটগুলোপাশাপাশি কাজদাতা ও কর্মীর মধ্যে রেটিং, ফিডব্যাক পদ্ধতি যুক্ত করে কাজদাতা ও কর্মীর প্রোফাইলও সমৃদ্ধ করেতবে পারিশ্রমিক নির্ধারণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে ওডেস্ক

দক্ষতাই কাজ পাওয়ার একমাত্র উপায়

অনলাইন শ্রমবাজারে কাজ করে অনেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে ফেলেছেনএ ধরনের ফ্রিল্যান্সারদের এখন উদ্যোক্তা বলা হচ্ছেযুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এমনকি বাংলাদেশেও গড়ে উঠেছে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানতবে বিশ্ব শ্রমশক্তি বিবর্তনের ক্ষেত্রে অনলাইনের এ শ্রম বিনিময় কী পরিবর্তন আনছে তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছেবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অ্যাসেঞ্চারের মতে, অনলাইন শ্রমবাজারে কর্মী দ্রুত বাড়ছেএ বাজার এখন ক্রমশ বাড়ছে বাজারে কাজ করতে গেলে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা থাকতে হবে তথ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে২০১২ সালে ওডেস্ক ও ইল্যান্সে সবচেয়ে বেশি কাজ পেয়েছেন ওয়েব প্রোগ্রামিং ও মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে দক্ষ কর্মীরাতবে কাজের অন্যান্য ক্ষেত্র দ্রুত বাড়ছে২০০৭ সালে মূলত চারটি বিভাগে কাজ পেতেন কর্মীরা ২০১২ সালে এসে ৩৫ টিরও বেশি বিভাগে কাজ পাচ্ছেন তাঁরা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, অনুবাদ-ভাষান্তর, কপি তৈরি করার কাজগুলো দ্রুত বাড়ছে

পারিশ্রমিক বৈষম্য

অনলাইনে দক্ষ কর্মী বাছাই করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে কাজ দেওয়ার সুবিধা পান কাজদাতা কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে কাজদাতা ও কর্মী পরস্পরকে মূল্যায়নের সুবিধা পানযা তাঁদের অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রোফাইলে যুক্ত হয়পরবর্তী কাজ পেতেও যা সহায়ক হয়তবে অনলাইন শ্রম বাজারের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়ে সমালোচনাও নেহাত কম নয়কম পারিশ্রমিকে উন্নত দেশের বায়াররা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ফ্রিল্যান্সারদেরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেতবে ইল্যান্স ও ওডেস্ক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেতাদের মতে, কাজ শুধু একমুখী নয়অর্থাত্ উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেও এসব সাইটে কাজ পোস্ট করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সাররাও আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন

অভিজ্ঞতা পারিশ্রমিক বাড়ায়

অনেকে ফ্রিল্যান্সার কম পারিশ্রমিকে কাজ শুরু করলেও এক বছরের মধ্যেই আবার তার কাজের ধরন অনুসারে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নিচ্ছেনএক বছরের অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে গড়ে শতকরা ৬০ শতাংশ হারে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে যা তিন বছরে ১৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে

অনলাইন শ্রমবাজারই ভবিষ্যৎ

অ্যাসেঞ্চারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজদাতাকে শুধু স্থায়ী কর্মী নিয়োগ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়াটা ঠিক হবে না বরং হাতের নাগালে থাকা অসংখ্য দক্ষ ভারচুয়াল কর্মীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগের কথাও ভাবতে হবে

Collection from prothom alo

Sunday, May 26, 2013

সবার ওপরে প্রিয়াঙ্কা



কলকাতা প্রতিনিধি: অভিনয়ে কে কতটা এগিয়ে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন সমালোচকরাকিন্তু অভিনেত্রীরা প্রায় সবাই পারিশ্রমিকের নিরিখে পৌঁছে গিয়েছেন কোটির ঘরেতবে বিদ্যা বালান যতই ফাটিয়ে অভিনয় করে একের পর এক পুরস্কার জিতে নিলেও তিনি পারিশ্রমিকের হিসেবে অন্যদের থেকে অনেকটাই পিছনেসবার ওপরে এখন অবস্থান দোস্তানা, ‘ফ্যাশন জঞ্জির ছবির হিট নায়িকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারদোস্তানা আর ফ্যাশন হিট করার পর থেকে প্রিয়াঙ্কা এক একটি ছবির জন্য ৫ কোটি রুপি নিতেনকিন্তু জঞ্জির-এ অভিনয়ের জন্য একলাফে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে করেছেন ৯ কোটি রুপিসদ্য মুক্তি পাওয়া শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা ছবিতে একটি আইটেম সংয়ের সঙ্গে নাচার জন্যই নিয়েছেন ৩ কোটি রুপিপ্রিয়াঙ্কার পরে ধনী নায়িকার তালিকায় কারিনা কাপুরবলিউডের শক্তিশালী এই অভিনেত্রী মধুর ভান্ডারকারের হিরোইন ছবির জন্য পারিশ্রমিক নিয়েছেন ৮ কোটি রুপিআর একটি লেমনেড ব্র্যান্ডের এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়েছেন ৫ কোটি রুপিবচ্চন বধূ ঐশ্বর্য রাই ১০টা হিট ছবির নায়িকা হলেও তিনি এখনও তার পারিশ্রমিক ৬ কোটির ওপরে তুলতে পারেননিরজনীকান্তের বিপরীতে রোবোট ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ওই অর্থ নিয়েছিলেনগত দুবছরে অবশ্য ঐশ্বর্য কোন ছবিতে হাত দেননি সন্তানের জন্যতবে চুটিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের বিজ্ঞাপন করে চলেছেনসেখান থেকে তার রোজগার ৪ কোটির কাছাকাছিঅন্যদিকে ১৩টি হিট ছবির নায়িকা কাটরিনা কাইফ জওয়ানি ছবি থেকে হৃদয়ের রানীর তকমা পেলেও তিনি ৪ কোটির ওপরে উঠতে পারেননিএনডোর্সমেন্ট থেকেও তার আয় ৪ কোটি রুপির বেশিআর বলিউডে অন্য সব নায়িকার চেয়ে বেশি আয়কর দেন কাটরিনাইতবে ৩ কোটি পারিশ্রমিকের তালিকায় এই মুহূর্তে অবস্থান তিনজন নায়িকারএরা হলেন বিদ্যা বালান, দীপিকা পাড়কোন ও বিপাশা বসুইশকিয়া, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা, ‘দ্য ডার্টি পিকচার বা কাহানির জন্য বিদ্যা বালান ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিলেও তিনি এখন থেকে তার পারিশ্রমিক ৭ কোটি করবেন বলে জানা গেছেবিদ্যা জানিয়েছেন, কেউ যদি মনে করেন আমার ৭ কোটি রুপি পাওয়া উচিততবে আমার নিতে আপত্তি নেইমাত্র ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ওম শান্তি ছবি করে যার বলিউডে পদার্পণ সেই দীপিকা এখনও ৩ কোটিতেই আটকে রয়েছেনতবে তার হিট ছবির সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে তিনি যে আর ৩-এ আটকে থাকবেন না সেটা আগাম বলেই দিয়েছেন বলিউডের বিশেষজ্ঞরাএদিকে ৫০টি ছবির নায়িকা বঙ্গতনয়া বিপাশা বসু তার পারিশ্রমিক ৩ কোটিতেই রেখে দিয়েছেনঅন্যদিকে সোনম কাপুর, আনুশকা শর্মা বা সোনাক্ষি সিনহার মতো নায়িকারা অভিনয়ের বিচারে দ্রুত এগিয়ে গেলেও তাদের পারিশ্রমিক এখনও দেড় কোটি রুপিতেই আটকে রয়েছেতবে সোনাক্ষি সিনহার মধ্যে আগামী দিনে দোস্তানা, ‘ফ্যাশন বলিউডে ধনী নায়িকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই

Wednesday, May 15, 2013

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে করণীয়



ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কী করা উচিতএ ব্যাপারে একটি তথ্য বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছেপাঠকের জন্য সেটি তুলে ধরা হলো:

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশবন্যা, খরা, ভূমিধস, টর্নেডো, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটেএর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে সম্পদ ও প্রাণহানির পরিমাণ ব্যাপকএ বিষয়ে জনগণকে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরিঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে জনগণের করণীয় বিষয়গুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখবে

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগে করণীয়
দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে, গবাদিপশু কোথায় থাকবে, তা আগে ঠিক করে রাখুন এবং জায়গা চিনিয়ে রাখুন
বাড়িতে, গ্রামে, রাস্তায় ও বাঁধের ওপর গাছ লাগান
যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুনপাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার ওপর ছাউনি দিনছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভালোকারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদিপশু আহত করতে পারেতবে শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে
উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল স্থাপন করুন, যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে
জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুনসকাল, দুপুর ও বিকেলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুন
সম্ভব হলে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিত্সার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখুন
জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন
বাড়িতে ও রাস্তায় নারকেল, কলাগাছ, বাঁশ, তাল, কড়ই ও অন্যান্য শক্ত গাছপালা লাগান এসব গাছ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেগ কমিয়ে দেয়ফলে মানুষ দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচতে পারে
নারী-পুরুষ, ছেলেমেয়ে প্রত্যেকেরই সাঁতার শেখা উচিত
ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নেওয়া যাবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে, তা ঠিক করে সেই অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
আর্থিক সামর্থ্য থাকলে ঘরের মধ্যে একটি পাকা গর্ত করুনজলোচ্ছ্বাসের আগে এই পাকা গর্তের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন
ডায়রিয়া মহামারির প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবেশিশুদের ডায়রিয়া হলে কীভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন
ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুটজাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভালো
নোংরা পানি কীভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে নারীদের এবং আপনার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেন
ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধমাটির বড় হাঁড়িতে বা ড্রামে পানি রেখে তার মুখ ভালোভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে, যাতে পোকা-মাকড়, ময়লা-আবর্জনা ঢুকতে না পারে

পূর্বাভাস পাওয়ার পর দুর্যোগকালে করণীয়

আপনার ঘরগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করুনআরও মজবুত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুনযেমন: মাটিতে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বাঁধা
সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন
বিপদ সংকেত পাওয়া মাত্র বাড়ির নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের আগে নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে পোঁছে দিতে প্রস্তুত হোন এবং অপসারণ নির্দেশের পরে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যান
বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আগুন নিভিয়ে যাবেন
আপনার অতি প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যসামগ্রী যেমনডাল, চাল, দেশলাই, শুকনো কাঠ, পানি ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহূত ওষুধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরস্যালাইন ইত্যাদি পানি নিরোধন পলিথিন ব্যাগে ভরে গর্তে রেখে ঢাকনা দিয়ে পুঁতে রাখুন
আপনার গরু-ছাগল নিকটস্থ উঁচু বাঁধে অথবা উঁচু স্থানে রাখুনকোনো অবস্থায়ই গোয়ালঘরে বেঁধে রাখবেন নাকোনো উঁচু জায়গা না থাকলে ছেড়ে দিন, বাঁচার চেষ্টা করতে দিন
শক্ত গাছের সঙ্গে কয়েক গোছা লম্বা মোটা শক্ত রশি বেঁধে রাখুনরশি ধরে অথবা রশির সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখুন, যাতে প্রবল ঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিতে না পারে
আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্ধারিত বাড়ির আশপাশে গাছের ডালপালা আসন্ন ঝড়ের আগেই কেটে রাখুন, যাতে ঝড়ে গাছগুলো ভেঙে বা উপড়ে না যায়
রেডিওতে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ঘূর্ণিঝড়ের খবর শুনতে থাকুন
দলিলপত্র ও টাকা-পয়সা পলিথিনে মুড়ে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখুন অথবা সুনির্দিষ্ট স্থানে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখুন
টিউবওয়েলের মাথা খুলে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে, যাতে ময়লা বা লবণাক্ত পানি টিউবওয়েলের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে

দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয়
রাস্তাঘাটের ওপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন, যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়
আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন
অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল, নদী, পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে, সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে
ত্রাণের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোনত্রাণের পরিবর্তে কাজ করুনকাজের সুযোগ সৃষ্টি করুনরিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উত্সাহী করে, সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে
দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধারকাজ শুরু করুনকাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাঁকে উদ্ধারকাজে সাহায্য করা যায়
ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন নাপরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার আশঙ্কা বেশি থাকে
পুকুরের বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুনবৃষ্টির পানি ধরে রাখুন
নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বণ্টন (আলাদা লাইনে) করুন
দ্রুত উত্পাদনশীল ধান ও শাক-সবজির জন্য জমি প্রস্তুত করুন, বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষিকাজ শুরু করুন, যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে

Tuesday, May 14, 2013

সামাজিক যোগাযোগ আপনার ফেসবুক আপনার নিয়ন্ত্রণে


এখন অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার করছেনকিন্তু কখনো কখনো এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়ধরুন, কেউ একজন বিব্রতকর একটি ছবি ট্যাগ করেছেন আপনাকেফেসবুকের টাইমলাইনে চলে গেল বিব্রতকর ছবিটিহলো শেয়ারঅনেকে নানা মন্তব্য করতে থাকেনএতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন কেউ কেউ
আবার এমন অনেক ছবি বা স্ট্যাটাস থাকে যা অনেকে সবাইকে দেখাতে চান নাআবার কোনো কারণে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কেউ জেনে ফেললনিজের ফেসবুকের গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) রক্ষার দায়িত্ব কিন্তু আপনারআর তা আপনি করতেও পারেনআপনার ফেসবুক যেন থাকে আপনার নিয়ন্ত্রণে
ফেসবুকের নীতিমালা না জানা বা নীতিমালা না পড়েই অনেকে ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে তা ব্যবহার করেএটা জানতে হবে যে ফেসবুকের সদস্য হতে বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৩ বছরনীতিমালায় লেখা আছে কীভাবে আপনার প্রাইভেসি রক্ষা করবেন বা কোনো কারণে হয়রানির শিকার হলে আপনার করণীয় কি
অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবহারকারীর সব তথ্য (প্রোফাইল ইনফো) তাঁর বন্ধু (ফেসবুক ফ্রেন্ড) না হয়েও সবাই দেখতে পায়এসব সমস্যার সমাধান করা যায় সহজেইতবে এর জন্য ব্যবহারকারীকে ফেসবুকে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবেবিভিন্ন ধরনের গোপনীয়তা রক্ষার সুবিধা রয়েছেচাইলে ফেসবুকের বন্ধুদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আলাদা তালিকায় রাখতে পারেনযেমন: পরিবার, স্কুল, কলেজ বা অফিসের বন্ধুদের জন্য আলাদা আলাদা তালিকা করতে পারেনএতে করে স্ট্যাটাস কিংবা ছবি শুধু যাঁদের দেখাতে চান, তাঁদেরই দেখাতে পারবেনকাজটি করতে চাইলে ফেসবুকের Settings থেকে Privacy Settings-এ গিয়ে আপনি নির্ধারিত করে দিতে পারেন ছবিটি সবাই দেখবে (প্রাইভেট) নাকি বিশেষ কয়েকজন দেখবেSettings-এর পাশে থাকা Privacy Shortcuts থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারেনযদি চান আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ কিছু ট্যাগ করলেও তা আপনার টাইমলাইনে দেখা যাবে না, তাহলে Privacy Settings-এ গিয়ে Timeline and Tagging Settings থেকে প্রয়োজনীয় অপশনগুলো বন্ধ করে দিনএখান থেকে টাইমলাইনে থাকা ছবি কে দেখতে পারবেন, কে মন্তব্য করতে পারবেনএসবও ঠিক করে দিতে পারবেন
ফেসবুকের পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালোপাসওয়ার্ডের পাশাপাশি