Saturday, March 2, 2013

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট: অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতায় নিমজ্জিত হতে পারে ঢাকা



মাথা ঠাণ্ডা রাখা না গেলে অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতায় নিমজ্জিত হতে পারে ঢাকাতাই এখনই সহিংসতা বন্ধ করুনবাংলাদেশের চলমান সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ কথা বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস  ওয়াচনিউ ইয়র্ক ভিত্তিক এ সংস্থা একই সময়ে সরকার ও সহিংসতায় লিপ্ত জামায়াত-শিবিরকে সতর্ক করেছেসংস্থার এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, সহিংস সংঘাত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলা, যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে যারা তাদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে জামায়াতের অনুসারীদের নিবৃত্ত করতে জামায়াতের নেতৃত্বকে অবিলম্বে বিবৃতি দিতে হবেএকই সময়ে সরকারের উচিত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া- যাতে তারা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেয় এবং নিজেদের ও অন্যদের জীবন রক্ষার মতো পরিস্থিতি ছাড়া প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ না করেহিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ: এন্ড ভায়োলেন্স ওভার ওয়ার ক্রাইমস ট্রায়ালসশীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১লা মার্চওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর জরুরি ভিত্তিকে নিশ্চিত করতে হবে যে, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সমর্থকরা যেন আর সহিংসতায় জড়িত না হয়হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এতে বলে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি সহিংসতা শুরুর পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত এই সহিংসতায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যেসব ব্যক্তি নৃশংসতা চালিয়েছিলেন তাদের বিচার করার জন্য বাংলাদেশ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) নামে একটি বিশেষ আদালত গঠন করেওই আদালত ২৮শে ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়এই রায়ের পরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে পুলিশ প্রতিবাদী জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেমিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে বেশিই মারা গেছেন পুলিশের হাতেহিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কিন্তু এসব ভাঙচুর ও সহিংসতায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও ছিলহিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রাথমিকভাবে যে খবর পেয়েছে তাতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে পুলিশের ওপররায় ঘোষণার প্রতিবাদে এ সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ ও বেসামরিক মানুষনেতা বা সদস্যরা সহিংসতার জন্য দায়ী নন বলে দাবি করেছে জামায়াতকিন্তু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কিছু বাড়িঘর ও হিন্দু সমপ্রদায়ের কিছু মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার জন্য দায়ী জামায়াত-শিবিরহিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সহিংসতাকে উস্কে দিতে পারে বা পরিস্থিতির অবনতি করতে পারে এমন কোন মন্তব্য বা বক্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত রাজনৈতিক নেতাদের১লা মার্চ বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেনতিনি প্রতিবাদীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ না করার জন্য সরকার ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানগত ১০ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেন তিনি তারও সমালোচনা করেনওই দিন জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায়ের প্রসঙ্গে বলেন, জনগণ তাদের রায় ও শাস্তি ঘোষণা করে দিয়েছেআদালতকে তিনি জনগণের সেই প্রত্যাশাকে আমলে নিতে বলেনখালেদা জিয়া এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এমন মন্তব্য অবাধ সুষ্ঠু বিচার করা, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন রায় ঘোষণা করা বিচারকদের পক্ষে অসম্ভব করে তুলবেএর পরেই তিনি সহিংসতার জন্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেনতিনি বলেন, দেশে গণহত্যা চলছেনিজের দেশে নিজের মানুষের বিরুদ্ধে কোন সরকার গণহত্যা চালাতে পারে- এটা আমাদের ধারণারও বাইরেকোন সরকার এই স্বাধীন দেশে গণহত্যার পথ বেছে নেবে- এটা আমরা বরদাশত করতে পারি নাএরপর তিনি আগামী ৫ই মার্চ দেশজুড়ে হরতাল ঘোষণা করেনব্রাড এডাম বলেন, সহিংসতা এখন শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছেএর মধ্যেও গণহত্যা নিয়ে কড়া ও প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রতিহিংসাপরায়ণ সহিংসতাকে বাড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি রয়েছে তাই সবার উচিত তা এড়িয়ে চলাহিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশের সহিংসতায় যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই ঘটেছে জামায়াতের প্রতিবাদ বিক্ষোভে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ফলে তাই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেতাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শক্তি ও অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কিত জাতিসংঘের মৌলিক নীতি যাতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী মেনে চলে সে জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হয়েছেওই নীতিতে বলা হয়েছে, শক্তি ও অস্ত্র প্রয়োগ করার আগে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী অহিংস আচরণ করবেযখন শক্তি ও অস্ত্র প্রয়োগের বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে পড়ে তখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের এমন বিষয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবেঅপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবেমানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং তা রক্ষা করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যাতে ক্ষয়ক্ষতি হয় ও আহতের ঘটনা ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবেপ্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে সব হত্যাকাণ্ডের কার্যকর তদন্ত দাবি করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচএ সংস্থার কাছে যে তথ্য আছে সে অনুয়ায়ী শিবির ও জামায়াত সমর্থকরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর সহিংসতায় লিপ্ত হয়উদাহরণ হিসেবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জামায়াতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর পরে ১লা মার্চ জামায়াত সমর্থকরা হত্যা করেছে সাজু মিয়া (৩০) ও সাপু (২২) নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুসমর্থককেএখনই সহিংসতা পরিহার করতে সমর্থকদের বিরত থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একটি বিবৃতি দিতে হবে
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তিন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেপ্রথম রায় দেয়া হয় গত জানুয়ারিতেওই রায়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়দ্বিতীয় রায়টি দেয়া হয় ৫ই ফেব্রুয়ারিএদিন আদালত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেএকটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাশ দেয়া হয়তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার ঘটনায় ঢাকায় সরকার সমর্থকদের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশেএই আন্দোলনের নাম দেয়া হয়েছে শাহবাগ আন্দোলনএই আন্দোলনে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমবেত হচ্ছেনদেশে বেশ কিছু সহিংসতা ও বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানির পরও এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ
এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরুর পর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইন পরিবর্তন করেএর ফলে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করার ক্ষমতা পেয়েছে প্রসিকিউশনএমন বিধান আন্তর্জাতিক আইন ও ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর লঙ্ঘন কারণ, যে ব্যক্তি আইন অনুযায়ী অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তাকে ফের এর অধীনে বিচার বা শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করার হাত থেকে রক্ষা করে এসব আইন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনের সংশোধনীর ফলে প্রসিকিউশন এখন একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনতে পারবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকেও নিষিদ্ধ করা হবে
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যখন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে সেদিন পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাকরছিল অত্যধিক আবেগএর ফলেই সহিংসতার বিস্তার শুরু হয়এতে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালে যারা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন তারা যাতে সুবিচার পান সেজন্য বিচার সুষ্ঠু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেকিন্তু এরই মধ্যে এ বিচার নিয়ে অনিয়ম হয়েছেবিবাদীপক্ষ সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করার অভিযোগ করেছেনগত নভেম্বরে আদালত ফটক থেকে তাদের এক সাক্ষীকে অপহরণের অভিযোগ আছেডিসেম্বরে এই আদালতের অনিয়ম নিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেতার ফলে বিবাদীপক্ষ পুনর্বিচারের আবেদন করেকিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নিএতে আরও বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অমানবিক শাস্তি হওয়ায় সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে

হঠাৎ করে দৃশ্যপট বদলে গেল , রাজনৈতিক ভাষ্যকার



হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেলচরম এক অস্থিরতা চারদিকেমানুষের মনে কোন শান্তি বা স্বস্তি নেইরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও বেকুব বনে গেছেনতারা বলছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে- এতে কার কি বলার আছে, কেবল মাত্র সংক্ষুব্ধ দল বা ব্যক্তি ছাড়াপরিস্থিতি এমনটাই ছিলপ্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয়া ছিল সত্যিই কঠিনকারণ, দলের দুজন নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেনএর মধ্যে শাহবাগে গণজাগরণহয়ে গেলএটাও এক নাটকীয় ঘটনাকয়েকজন ব্লগার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এখন আর কেউ এটা বিশ্বাস করে নাশুরুতে তাই মনে হতোটাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বিষয়টি খোলাসা করে দিয়ে গেছেযুদ্ধাপরাধের তিনটি মামলার রায় হয়েছেআবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে তেমন হইচই হয়নিকারণ হতে পারে দুটোতার এখন আর কোন দল নেইবহু আগে জামায়াতে ইসলামী ছেড়েছেনদুই নম্বর হতে পারে তার প্রতীকী ফাঁসি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেইতিনি কোন দূরদেশে অবস্থান করছেনকিভাবে তিনি গেলেন বা কোথায় আছেন তা এখনও রহস্যঘেরাসমালোচকরা নানা কথাই বলেনএর মধ্যে যুক্তি আছে, নেইও  আবদুল কাদের মোল্লার মামলার রায় নিয়েই যত গোলমালযাবজ্জীবন সাজা মানতে পারেননি তরুণরাতাই তারা শাহবাগে জাগরণের চেষ্টা করেনসরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা সফল হনবিরোধী বিএনপিও এতে সমর্থন দেয়আইন সংশোধন হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যেহিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ প্রসঙ্গে বলেছে, ‘যে দেশে আইনের শাসন নিয়ে সরকার পরিচালিত হয় সেখানে আদালতের রায় তাদের পছন্দ না হলে তারা আদালতের সেই রায়কে পাল্টে দিতে একটি আইন করতে পারে নাএক্ষেত্রে আইনের যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে বিচার প্রক্রিয়া যে প্রশ্নবিদ্ধ তাতে কোন সন্দেহ নেইএ কথা ঠিক, শাহবাগের আন্দোলন মিশরের তাহরির স্কোয়ার অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট দখলের আন্দোলনের অবিকল কিছু নয়বরং উল্টোটাই দেখা গেছেখাওয়া-দাওয়া, নানা সুযোগ সুবিধা ছাড়াও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে চব্বিশ ঘণ্টাএ থেকে সরকার ফায়দা তুলতে চেয়েছে কিছুটা পেয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেইসরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে চলে গিয়েছিল এ ঘটনায় মানুষ সাময়িককালের জন্য হলেও হলমার্ক, ডেসটিনি, পদ্মা নিয়ে দুর্নীতি ভুলে গেছেসরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কথা মানুষ এখন আলোচনা করছে নামেইনস্ট্রিম মিডিয়াও একই সুরে কথা বলছেদিন আগেও যারা সরকারের সমালোচনায় মুখর ছিল; সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এসব মিডিয়া আরেকটা ওয়ান ইলেভেন তৈরি করতে চাচ্ছেএখন এই মিডিয়া কোরাস গাইছে এক সুরেযদিও কেউ কেউ তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেনবলছেন, শাহবাগকে বিকল্প সরকার বানিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে  শেরেবাংলা একে ফজলুল হক যখন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তখন প্রতিদিনই তার সমালোচনা করতো কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাএকদিন সকাল বেলা তার প্রাইভেট সেক্রেটারি এসে বললেন- স্যার, আজকে আনন্দবাজার পত্রিকা আপনার প্রশংসা করেছেশেরেবাংলা তখন বললেন- তাই নাকি? তাহলে তো মনে হয় আমি সঠিক পথে নেই
যাই বলুন না কেন, যেভাবেই মূল্যায়ন করুন না কেন, শেখ হাসিনা যে মস্ত বড় এক চাল চেলেছেন তা নিয়ে কি কারও মনে সন্দেহ আছে! যদিও কেউ বলছেন, তাদের মনে হয়- বর্তমান ছক ও কৌশল হাসিনা নির্ণয় করেননিকরলে এতোটা জগাখিচুড়ি হতো নাতৃতীয় পক্ষ ঢুকে পয়েন্ট অব নো রিটার্নে নিয়ে গেছে তাকেএখান থেকে বেরিয়ে আসা সত্যিই কঠিন
হিসাবটা গোলমাল হয়ে গেল সাঈদীর ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়েদেশব্যাপী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো৫০ জনের মৃত্যুর সংবাদ এসেছেগুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩শজনপুলিশও মারা গেছেএখানেই কি শেষ? বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, শুরু হলো মাত্র সিএনএন বলেছে, স্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশএক বাক্যে বাংলাদেশের মানুষ সবাই স্বীকার করবেনথমথমে অবস্থাবাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে গেছেঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে- কোন দিকে যাচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি জামায়াতবিরোধী ধর্মীয় সংগঠনগুলোও মাঠেব্লগার রাজীবের ব্লগের লেখা নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেনবলছেন, একজন নাস্তিককে নিয়ে সরকার কেন মাতামাতি করছেসরকারপ্রধান কেন সবকিছু না জেনে তাকে জাতীয় বীর ঘোষণা করলেনতাদের আন্দোলন অবশ্য অনেকটা নিয়ন্ত্রিতসরকারের তরফে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছেহাটহাজারীর জনপ্রিয় পীর সাহেবের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছেফলাফল কি তা জানা যায়নিআতঙ্ক এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, লোকজন মসজিদে যেতেও ভয় পাচ্ছে  অনেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন বলছেন, তারা কেন জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছেযুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবেআর তারা যদি আল কায়েদার পথ বেছে নেয় তখন অশান্ত হবে বাংলাদেশতাদের রয়েছে বুদ্ধি ও শিক্ষাতাদের পেছনে টাকার জোগান থাকবে নিরবচ্ছিন্নভাবেএ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম সতর্ক করেছেবাস্তব অবস্থা কিন্তু তাইপাকিস্তান কাঁদছেআফগানিস্তান জ্বলেপুড়ে ছাইকেউ আমাদেরকে সেদিকে নিয়ে যাবার জন্য টানছে কিনা তা পর্যালোচনা করে দেখার সময় এসেছেক্রিকেটার কাম পলিটিশিয়ান ইমরান খান পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন- অনেক হয়েছেআসুন সবকিছু ভুলে গিয়ে পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য ভাবিআমরা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করিভুলভ্রান্তি একপাশে রেখে তালেবানের সঙ্গেও কথা বলিবাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্বময়অর্থনীতি নাজুক হতে চলেছেব্যবসা-বাণিজ্য স্থবিরবিদেশী বিনিয়োগ বন্ধএকমাত্র পুঁজি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সসেটাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছেসৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কি হয় বলা যাচ্ছে নাতবে মদিনা থেকে এক ধরনের পরামর্শ গেছে জেদ্দায়এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বন্ধ করার দাবি এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাতে বিঘ্ন ঘটানোয় আন্তর্জাতিক ১৪টি সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে, যারা এই ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার৮০ লাখ গ্রাহকের এই ব্যাংকটির ৪৫% বিনিয়োগ রয়েছে শিল্পখাতেবর্তমানে প্রায় ৪ হাজার শিল্প কারখানা এই ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছেসরকারকে এ ব্যাপারে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে হবেতারা কি চান পরিষ্কার করতে হবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছেপ্রধান বিরোধী দল বিএনপিও মাঠে নামতে যাচ্ছেতাদের কৌশল কি হবে তার কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনেজামায়াতের হরতালের প্রতি সরাসরি সমর্থন না দিয়ে এক দিনের হরতাল কর্মসূচি দিয়েছেন আলাদা করেবলেছেন, পুলিশ যে গণহত্যা চালাচ্ছে এর দায় সরকারেররাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, বিএনপি ঘুমিয়ে ছিলঘুম থেকে উঠে দেখছে খেলাতো তাদের বাদ দিয়েই হচ্ছেযে খেলা হোক না কেন, পরিস্থিতি যে কোন সময় যে কোনদিকে মোড় নিতে পারে
বাতাসে নানা কথাই চাউর হয়ে গেছে ইতিমধ্যেইশেষ পর্যন্ত কি দাঁড়াবে তা বোধকরি রাজনীতির কারবারিরা জানেনশুধু জানেন না জনগণতাদের সামনে এক অনিশ্চিত অবস্থাছেলেমেয়েদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধএকের পর এক হরতালে পরীক্ষার রুটিনও বদল হচ্ছে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা যে কোন সময়ের তুলনায় বেশিচালের দামে ঊর্ধ্বগতিআগে আন্দোলন হতো শহরকেন্দ্রিকএখন কিন্তু এই আন্দোলন গ্রামেও ছড়িয়েছেবৃহস্পতিবার অন্তত ৮টি স্থানে গ্রামের মানুষ যোগ দিয়েছে
সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত নিতে হবেমনে রাখতে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যাবঙ্গবন্ধু কিন্তু এমন বাংলাদেশ চাননি৭১ সালের আগে শত্রুমিত্র চেনা যেতপাকিস্তান ছিল শত্রুর কাতারেএখন একই বাড়িতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাসতাই কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভেবে দেখতে হবে, যাতে ভ্রাতৃঘাতী কোন যুদ্ধে আমরা লিপ্ত না হই  জামায়াতিদেরও বুঝতে হবে হিংসা হিংসারই জন্ম দেয়হিংসার পথে কোন সমাধান নয় যুদ্ধপরাধের প্রশ্নে জামায়াতকে বাস্তবতা মেনে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে
Collection From Dailymanabzamin news paper.