মাথা ঠাণ্ডা রাখা না গেলে অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতায় নিমজ্জিত হতে
পারে ঢাকা। তাই এখনই সহিংসতা বন্ধ
করুন। বাংলাদেশের চলমান
সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ কথা বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস
ওয়াচ। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক এ সংস্থা একই সময়ে সরকার ও সহিংসতায়
লিপ্ত জামায়াত-শিবিরকে
সতর্ক করেছে। সংস্থার এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, সহিংস সংঘাত,
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলা, যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে যারা তাদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে জামায়াতের অনুসারীদের নিবৃত্ত করতে
জামায়াতের নেতৃত্বকে অবিলম্বে বিবৃতি দিতে হবে। একই সময়ে সরকারের উচিত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া- যাতে তারা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয়
দেয় এবং নিজেদের ও অন্যদের জীবন রক্ষার মতো পরিস্থিতি ছাড়া প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ না করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: এন্ড ভায়োলেন্স ওভার ওয়ার ক্রাইমস ট্রায়ালস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১লা মার্চ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও
জামায়াতে ইসলামীর জরুরি ভিত্তিকে নিশ্চিত করতে হবে যে, নিরাপত্তা
রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় সমর্থকরা যেন আর সহিংসতায় জড়িত না হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এতে বলে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি সহিংসতা শুরুর পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত এই সহিংসতায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যেসব ব্যক্তি
নৃশংসতা চালিয়েছিলেন তাদের বিচার করার জন্য বাংলাদেশ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) নামে একটি বিশেষ আদালত গঠন করে। ওই আদালত ২৮শে
ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এই রায়ের পরই
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে পুলিশ প্রতিবাদী
জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা মারা গেছেন
তাদের মধ্যে বেশিই মারা গেছেন
পুলিশের হাতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, কিন্তু এসব ভাঙচুর ও সহিংসতায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী
লীগের সমর্থকরাও ছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
প্রাথমিকভাবে যে খবর পেয়েছে তাতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে পুলিশের ওপর। রায় ঘোষণার প্রতিবাদে এ সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ ও
বেসামরিক মানুষ। নেতা বা সদস্যরা সহিংসতার
জন্য দায়ী নন বলে দাবি করেছে জামায়াত। কিন্তু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কিছু বাড়িঘর ও
হিন্দু সমপ্রদায়ের কিছু মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার জন্য দায়ী জামায়াত-শিবির। হিউম্যান রাইটস
ওয়াচ বলেছে, সহিংসতাকে উস্কে দিতে পারে বা পরিস্থিতির
অবনতি করতে পারে এমন কোন মন্তব্য বা বক্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত রাজনৈতিক নেতাদের। ১লা মার্চ বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর
নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি প্রতিবাদীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ না করার জন্য সরকার ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। গত ১০ই ফেব্রুয়ারি
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা যে মন্তব্য করেন তিনি তারও সমালোচনা করেন। ওই দিন জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায়ের প্রসঙ্গে
বলেন, জনগণ তাদের রায় ও শাস্তি ঘোষণা করে দিয়েছে। আদালতকে তিনি জনগণের সেই প্রত্যাশাকে আমলে নিতে বলেন। খালেদা জিয়া এ বক্তব্যের সমালোচনা করে
বলেন, এমন মন্তব্য অবাধ সুষ্ঠু বিচার করা, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন রায় ঘোষণা করা বিচারকদের পক্ষে অসম্ভব করে তুলবে। এর পরেই তিনি সহিংসতার জন্য সরকারের কড়া
সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,
দেশে গণহত্যা চলছে। নিজের দেশে নিজের মানুষের বিরুদ্ধে কোন সরকার গণহত্যা চালাতে পারে- এটা আমাদের ধারণারও বাইরে। কোন সরকার এই স্বাধীন দেশে গণহত্যার পথ বেছে নেবে- এটা
আমরা বরদাশত করতে পারি না। এরপর তিনি আগামী ৫ই মার্চ দেশজুড়ে হরতাল ঘোষণা করেন। ব্রাড এডাম বলেন, সহিংসতা এখন শোচনীয়
পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেও গণহত্যা নিয়ে কড়া ও প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রতিহিংসাপরায়ণ সহিংসতাকে বাড়িয়ে
দেয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সবার উচিত তা এড়িয়ে চলা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশের সহিংসতায় যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই ঘটেছে জামায়াতের প্রতিবাদ বিক্ষোভে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর
সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ফলে। তাই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরকারের প্রতি
আহ্বান জানিয়েছে। তাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শক্তি ও অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কিত জাতিসংঘের মৌলিক নীতি যাতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী
বাহিনী মেনে চলে সে জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। ওই নীতিতে বলা হয়েছে, শক্তি ও অস্ত্র প্রয়োগ
করার আগে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী অহিংস আচরণ করবে। যখন শক্তি ও অস্ত্র প্রয়োগের বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে পড়ে তখন আইন শৃঙ্খলা
রক্ষাকারীদের এমন বিষয়ে
সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং তা রক্ষা করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে যাতে ক্ষয়ক্ষতি হয় ও
আহতের ঘটনা ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে সব হত্যাকাণ্ডের কার্যকর তদন্ত দাবি করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ সংস্থার কাছে যে
তথ্য আছে সে অনুয়ায়ী শিবির ও জামায়াত সমর্থকরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর সহিংসতায় লিপ্ত হয়। উদাহরণ হিসেবে রিপোর্টে বলা হয়েছে,
আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জামায়াতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর পরে ১লা মার্চ
জামায়াত সমর্থকরা হত্যা
করেছে সাজু মিয়া (৩০) ও সাপু (২২) নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দু’সমর্থককে। এখনই সহিংসতা
পরিহার করতে সমর্থকদের বিরত থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একটি বিবৃতি দিতে হবে।
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তিন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। প্রথম রায় দেয়া হয় গত জানুয়ারিতে। ওই রায়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় রায়টি দেয়া হয় ৫ই ফেব্রুয়ারি। এদিন আদালত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে। একটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাশ দেয়া হয়। তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার ঘটনায় ঢাকায় সরকার সমর্থকদের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এই আন্দোলনের নাম দেয়া হয়েছে ‘শাহবাগ আন্দোলন’। এই আন্দোলনে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমবেত হচ্ছেন। দেশে বেশ কিছু সহিংসতা ও বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানির পরও এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ।
এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরুর পর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইন পরিবর্তন করে। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করার ক্ষমতা পেয়েছে প্রসিকিউশন। এমন বিধান আন্তর্জাতিক আইন ও ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর লঙ্ঘন। কারণ, যে ব্যক্তি আইন অনুযায়ী অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তাকে ফের এর অধীনে বিচার বা শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করার হাত থেকে রক্ষা করে এসব আইন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনের সংশোধনীর ফলে প্রসিকিউশন এখন একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনতে পারবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকেও নিষিদ্ধ করা হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যখন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে সেদিন পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাকর। ছিল অত্যধিক আবেগ। এর ফলেই সহিংসতার বিস্তার শুরু হয়। এতে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালে যারা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন তারা যাতে সুবিচার পান সেজন্য বিচার সুষ্ঠু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু এরই মধ্যে এ বিচার নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। বিবাদীপক্ষ সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন। গত নভেম্বরে আদালত ফটক থেকে তাদের এক সাক্ষীকে অপহরণের অভিযোগ আছে। ডিসেম্বরে এই আদালতের অনিয়ম নিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট রিপোর্ট প্রকাশ করে। তার ফলে বিবাদীপক্ষ পুনর্বিচারের আবেদন করে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নি। এতে আরও বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অমানবিক শাস্তি হওয়ায় সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তিন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে। প্রথম রায় দেয়া হয় গত জানুয়ারিতে। ওই রায়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় রায়টি দেয়া হয় ৫ই ফেব্রুয়ারি। এদিন আদালত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিতে অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে। একটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাশ দেয়া হয়। তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার ঘটনায় ঢাকায় সরকার সমর্থকদের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার দাবিতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এই আন্দোলনের নাম দেয়া হয়েছে ‘শাহবাগ আন্দোলন’। এই আন্দোলনে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমবেত হচ্ছেন। দেশে বেশ কিছু সহিংসতা ও বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানির পরও এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ।
এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরুর পর সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইন পরিবর্তন করে। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করার ক্ষমতা পেয়েছে প্রসিকিউশন। এমন বিধান আন্তর্জাতিক আইন ও ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এর লঙ্ঘন। কারণ, যে ব্যক্তি আইন অনুযায়ী অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তাকে ফের এর অধীনে বিচার বা শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করার হাত থেকে রক্ষা করে এসব আইন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনের সংশোধনীর ফলে প্রসিকিউশন এখন একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনতে পারবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এই দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকেও নিষিদ্ধ করা হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যখন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে সেদিন পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাকর। ছিল অত্যধিক আবেগ। এর ফলেই সহিংসতার বিস্তার শুরু হয়। এতে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালে যারা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন তারা যাতে সুবিচার পান সেজন্য বিচার সুষ্ঠু হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু এরই মধ্যে এ বিচার নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। বিবাদীপক্ষ সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন। গত নভেম্বরে আদালত ফটক থেকে তাদের এক সাক্ষীকে অপহরণের অভিযোগ আছে। ডিসেম্বরে এই আদালতের অনিয়ম নিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট রিপোর্ট প্রকাশ করে। তার ফলে বিবাদীপক্ষ পুনর্বিচারের আবেদন করে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নি। এতে আরও বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অমানবিক শাস্তি হওয়ায় সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।
No comments:
Post a Comment